ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি সুপ্রিম কোর্টে ‘অবৈধ’ ঘোষণা; ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্টের নতুন শুল্কের হুমকি
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 21 Feb, 2026
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ৬-৩ বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন।
তবে এই রায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিন্ন আইনের অধীনে সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই রায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আদালতের রুলে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে বিশ্বজুড়ে যে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তার এখতিয়ারবহির্ভূত এবং ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন। এই আইন প্রেসিডেন্টকে এমন একতরফা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এর আগে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নিম্ন আদালত এবং ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট জজও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে, সর্বোচ্চ আদালতও নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখেন।
রায়ের পর হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই রায়কে ‘জাতির জন্য অসম্মানজনক’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “কিছু বিচারপতির জন্য আমি সত্যিই লজ্জিত। তারা বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করেছেন।”
আদালতের রায়ে আগের শুল্ক বাতিল হলেও, ট্রাম্প দমে যাননি। বিকল্প উপায়ে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন এবং ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইন ব্যবহার করে সব দেশের আমদানি পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের বাইরে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভারতের মতো কিছু দেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলো বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রাথমিকভাবে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এরপর দফায় দফায় আলোচনা ও দেনদরবারের পর তা কমিয়ে পর্যায়ক্রমে ৩৫, ২০ এবং সর্বশেষ বাণিজ্য চুক্তির পর ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
এর বাইরে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ সাধারণ শুল্ক দিতে হতো। ফলে মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছিল ৩৪ শতাংশে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের আগের আদেশটি বাতিল হওয়ায় এবং নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায়, এখন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে মোট কত শতাংশ শুল্ক দিতে হবে, তা নিয়ে নতুন করে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক যতটা সম্ভব বহাল রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে আরও আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো এএফপিকে জানান, আদালতের এই রায়ের ফলে গড় শুল্কহার সাময়িকভাবে ১৬.৮ শতাংশ থেকে কমে ৯.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে মার্কিন সরকার নতুন করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের জন্য যেহেতু অন্য পথ খুঁজছে, তাই এই স্বস্তি খুব বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

